অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে ২৪ টি কার্যকরী তথ্য জানুন
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আজ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। প্রাচীনকাল থেকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অর্জুন ছালের ব্যবহার আমরা দেখে আসছি।
অর্জুন ছালের বিভিন্ন বিষয়ের সাথে আজ আমরা বিশেষভাবে আলোচনা করব, অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। তবে আর দেরি না করে, চলুন শুরু করা যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা
- অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা
- অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
- অর্জুন ফলের উপকারিতা
- অর্জুন গাছের পাতার উপকারিতা
- অর্জুনের পুষ্টি উপাদান
- অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায়
- অর্জুন ছালের গুড়া খাওয়ার নিয়ম
- গর্ভাবস্থায় অর্জুন ছাল খাওয়ার উপকারিতা
- অর্জুন ছালের অপকারিতা
- লেখক এর শেষ কথাঃ অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে, অর্জুন গাছের প্রত্যেকটি অংশ ঔষধি গুণ সম্পন্ন উপাদানে ভরপুর। আমরা বিশেষভাবে অর্জুন গাছের ছাল ব্যবহারের বিষয়ে জানলেও অর্জুন গাছের অন্যান্য অংশ দিয়েও ব্যাপক উপকারী উপাদান তৈরি করা যায়। অর্জুন গাছের ছাল সহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি ভেষজ থেকে কি কি উপকার পাওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরছি।
- অর্জুন ছালে ফ্লাভোনয়েড উপাদান পাওয়া যায়, যা শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এই ফ্লাভোনয়েড উপাদান আপনার রক্তনালী প্রসারিত করবে, যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে।
- আপনার দেহের ফ্রী র্যাডিকেল প্রতিরোধ করতে অর্জুন ছালের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এটি কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে বয়স জনিত রোগ এবং ছাপ প্রতিরোধে ব্যাপক সহায়ক হয়ে থাকে।
- অর্জুন ছালে ট্যানিন উপাদান রয়েছে, যা শক্তিশালী প্রদাহ নাশক হিসেবে পরিচিত। এটি আপনার বাত ও জয়েন্টের ব্যথা ও গ্যাস্ট্রিক জনিত বিভিন্ন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
- অর্জুন ছাল ব্যবহার করলে সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক সহায়ক হবে, এটি আপনার বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
- অর্জুন ছালে স্যাপোনিন উপাদান রয়েছে, যা আপনার শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে রক্তনালীর ব্লক দূর করতে সাহায্য করবে।
- অর্জুন ছালে স্যাপোনিন উপাদান রয়েছে, যা আপনার শরীরের মেটাবোলিজম বৃদ্ধি করবে এবং দ্রুত ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করবে। এটি আপনার ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
- অর্জুন ছালে অ্যার্জুনিক অ্যাসিড রয়েছে,যা কার্ডিওটনিক হিসেবে কাজ করে, যার ফলে হার্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি হয় ও রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে।
- অর্জুন ছালে থাকা উপাদান আপনার অনিদ্রা দূর করে দিতে পারে। এটি আপনার স্নায়ুকে শান্ত করবে, যার ফলে ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
- অর্জুন ছালে ক্যালসিয়াম উপাদান রয়েছে, যা আপনার হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করবে ও দাঁত মজবুত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
- অর্জুন ছালে থাকা ক্যালসিয়াম উপাদান আপনার পিত্তের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। এটি আপনার পিত্ত থলির পাথর তৈরি হওয়া প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
- অর্জুন ছালে থাকা ম্যাগনেসিয়াম উপাদান আপনার নার্ভ ফাংশন উন্নত করবে এবং স্নায়ু সুস্থ রেখে মানসিক চাপ কমিয়ে দেবে।
- অর্জুন ছালে থাকা ম্যাগনেসিয়াম উপাদান আপনার পেশীর সংকোচন ও প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি আপনার পেশীর ব্যথা কমিয়ে পেশীর শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
- অর্জুন ছালে জিংক উপাদান রয়েছে, যা আপনার শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
- অর্জুন ছালের জিংক উপাদান আপনার মুখের ব্রণ দূর করবে এবং ত্বক ভালো রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
- অর্জুন ছালে কপার উপাদান পাওয়া যায়, যা আপনার শরীরের লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করবে। এর মাধ্যমে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
- অর্জুন ছালে কপার উপাদান রয়েছে, যা আপনার ত্বকের মেলানিন উৎপাদনে সাহায্য করবে এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে।
- অর্জুন ছালে আয়রন উপাদান রয়েছে, যা আপনার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে রক্তস্বল্পতা কমিয়ে দিতে পারে।
- অর্জুন ছালে থাকা উপাদান আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং অক্সিজেন পরিবহন উন্নত করবে।
- অর্জুন ছালে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান পাওয়া যায়, যা আপনার ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হয়ে থাকে। এটি আপনার দেহের কোষকে ক্যান্সার কোষে রূপান্তরিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
- অর্জুন ছালে থাকা উপাদান আপনার লিভার থেকে টক্সিন দূর করে দিবে এবং ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ করে লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে দিবে।
- অর্জুন ছাল ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বকের বয়স জনিত বলিরেখা ও কালো দাগ কমে যায়। যার ফলে ত্বক তরুণ থাকে।
- অর্জুন ছালে রয়েছে ডাইইউরেটিক উপাদান, যা প্রাকৃতিক ভাবে আপনার কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করবে।
- অর্জুন ছালে থাকা ডাইইউরেটিক উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ ও পানি বের করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
- নিয়মিত অর্জুন ছাল ব্যবহার করলে মূত্রনালির সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হয়ে থাকে।
অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বলতে গেলে, আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণ করতে অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতার মধ্যে দেহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খেলে। চলুন বেশ কিছু নিয়ম দেখে নেই।
অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার সাধারণ পদ্ধতি
উপকরণ
- ১ চা চামচ অর্জুন ছালের গুড়া বা ২-৩ টুকরা ছাল।
- ১ গ্লাস পানি
- মধু
১ গ্লাস পানিতে অর্জুন ছালের গুড়া বা টুকরা ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে এই পানি ছেঁকে নিয়ে মধু মিশিয়ে পান করতে হবে। ভালো ফলাফল পেতে প্রতিদিন সকালে এটি খাওয়া যেতে পারে।
গরম পানিতে অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার পদ্ধতি
উপকরণ
- ১ চা চামচ অর্জুন ছালের গুড়া
- ১ গ্লাস গরম পানি
১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে অর্জুন ছালের গুড়া মিশিয়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এটি ছেঁকে নিয়ে সকালে খালি পেটে পান করতে হবে। প্রয়োজনে সামান্য মধু বা লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
অর্জুন ক্বাথ
উপকরণ
- ১ চামচ অর্জুন ছালের গুড়া বা ২-৩ টুকরা ছাল
- ২ কাপ পানি
অর্জুন ছাল ও পানি এক সাথে ১০ থেকে ১৫ মিনিট জাল দিতে হবে। পানি অর্ধেক হলে ছেঁকে নিতে হবে। ছেঁকে নেওয়া পানি হালকা গরম অবস্থায় পান করতে হবে। ভালো ফলাফল পেতে সকালে খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া যেতে পারে।
দুধের সাথে অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার পদ্ধতি
উপকরণ
- ১ গ্লাস দুধ
- ১ চা চামচ অর্জুন ছালের গুড়া
- সামান্য মধু
গরম দুধের মধ্যে অর্জুন ছালের গুড়া ৫ থেকে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। ভালোভাবে মিশিয়ে পান করতে হবে। স্বাদ বাড়ানোর জন্য সামান্য মধু ব্যবহার করা যেতে পারে।
অর্জুন ছাল ভিজিয়ে পান করার ক্ষেত্রে সব সময় মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত পরিমাণে অর্জুন ছাল গ্রহণ করা দেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আপনি যদি রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঔষধ খেয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদান কালে অর্জুন গাছের ছাল খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নিম্ন রক্তচাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে অবশ্যই অল্প পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে।
অর্জুন ফলের উপকারিতা
অর্জুন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে, অর্জুন গাছের ছাল এর ন্যায় অর্জুন ফলেও ব্যাপক উপকারী উপাদান রয়েছে, যা আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়ে থাকে। এই ফল সম্পর্কে না জানার কারণে আমরা এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি না। অর্জুন ফলে আশ্চর্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। চলুন, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেই।
- অর্জুন ফল আপনি যদি শুকিয়ে গুড়া করে প্রতিদিন সকালে ১ চা চামচ হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আপনার হৃদযন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং রক্ত চলাচল উন্নত হবে।
- অর্জুন ফলের গুড়া ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে থাকে। এতে থাকা ফ্লাভোনয়েড ও ম্যাগনেসিয়াম উপাদান আপনার রক্তনালীকে প্রশস্ত করে দিতে পারে।
- অর্জুন ফলের গুড়া প্রতিদিন ১ চা চামচ পানির সাথে মিশিয়ে খেলে আপনার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমে যাবে এবং ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যাবে এবং রক্তনালী পরিষ্কার হবে।
- অর্জুন ফলের গুড়া গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়ে যাবে এবং আপনার হজম শক্তির উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
- অর্জুন ফলে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদান, যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং ঠাণ্ডা সর্দির সংক্রমণ কমিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
- প্রতিদিন সকালে এক চা চামচ অর্জুন ফলের গুড়া খেলে আপনার রক্তস্বল্পতা দূর হয়ে যাবে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
- আপনার যদি ত্বকে ব্রণ থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্জুন ফলের গুড়া মধুর সাথে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের বিভিন্ন দাগ দূর হয়ে যাবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
- আধা গ্লাস পানিতে অর্জুন ফলের গুঁড়া ১ চামচ পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে আগুনে জাল দিয়ে হাফ গ্লাস হওয়ার পর সেটি ঠাণ্ডা করে পান করলে শরীর থেকে ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ বের হয়ে যাবে এবং লিভারের কার্য কারিতা উন্নত হবে।
- অর্জুন ফলের গুড়া ১ চামচ করে দিনে ২বার হালকা গরম পানির সাথে খেলে কিডনি থেকে ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং আপনার যদি প্রস্রাবে কোন ধরনের সংক্রমণ থাকে, সে ক্ষেত্রে তা দূর হয়ে যাবে।
- অর্জুন ফলের গুড়া হালকা গরম দুধের সাথে মিশিয়ে রাতে খেলে ভালো ঘুম হয়। এটি আপনার স্নায়ুকে শান্ত করবে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
- অর্জুন ফলের গুড়া ১ গ্লাস গরম দুধের সাথে খেলে পুরুষ ও নারীদের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি আপনার শরীরকে উদ্দীপিত করবে এবং শক্তি বাড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
- অর্জুন ফলের গুড়া ১ চা চামচ গরম পানির সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে শরীরের মেটাবোলিজম বৃদ্ধি পায়। এটি আপনার শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করবে।
- অর্জুন ফলের গুড়া প্রতিদিন সকালে খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে দেয়।
- অর্জুন ফলের গুড়া নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে স্কাল্পে লাগালে চুল পড়া কমে যায়। এটি আপনার চুলের গোঁড়া মজবুত করবে এবং খুশকি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
- অর্জুন ফলের গুড়া টুথপেস্ট এর সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করলে মাড়ির সমস্যা কমে যায় এবং দাঁত মজবুত হয়।
অর্জুন গাছের পাতার উপকারিতা
অর্জুন গাছের পাতার উপকারিতা সম্পর্কে এখন আমরা বেশ কিছু তথ্য জানতে চলেছি। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি অর্জুন গাছের প্রত্যেকটি অংশ ঔষধি গুণাগুণে ভরপুর। অর্জুন গাছের পাতায় রয়েছে বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা, যা ব্যবহার করলে আমরা যে সমস্ত উপকার পেতে পারি, সে সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য উপস্থাপন করছি।
আপনি যদি প্রতিদিন সকালে অর্জুন পাতার রস খালি পেটে পান করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আপনার হার্টের পেশি শক্তিশালী হবে। এটি আপনার হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা রাখবে। অর্জুন পাতায় থাকা উপাদান আপনার ফ্রী র্যাডিকেল দূর করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে। অর্জুন পাতার রস পান করলে আপনার অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হবে।
আরও পড়ুনঃ পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক
অর্জুন পাতার রস আপনার শরীরে যদি কোথাও কেটে যায় বা ক্ষত থাকে সেখানে লাগালে দ্রুত শুকিয়ে যায়। আপনার যদি হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে অর্জুন পাতার রস গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাবেন। পাইলস বা অর্শ রোগের সমস্যায় অর্জুন পাতার রস প্রতিদিন সকালে পান করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
অর্জুন পাতার রস পান করলে আপনার রক্ত পরিষ্কার হবে এবং রক্তের দূষিত পদার্থ বের হয়ে যাবে। অর্জুন পাতার রস আপনার কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। গেটে বাঁত বা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে অর্জুন পাতার রস ব্যথা স্থানে লাগালে ব্যথা কমে যায়। এছাড়াও এটি আপনার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্জুনের পুষ্টি উপাদান
অর্জুনের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে এখন আমরা বেশ কিছু তথ্য জানতে চলেছি। অর্জুনের ফল বা পাতার পুষ্টি উপাদানের ক্ষেত্রে খুব একটা তারতম্য দেখা যায় না। এখানে আনুমানিক একটি সারণি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি, যাতে আপনারা অর্জুনের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
১০০ গ্রাম অর্জুনের পুষ্টি উপাদান
নম্বর | উপাদান | পরিমাণ |
---|---|---|
১ | কার্বোহাইড্রেট | ৩৫-৪০ গ্রাম |
২ | প্রোটিন | ২.৫-৩.৫ গ্রাম |
৩ | ফ্যাট | ১-১.৫ গ্রাম |
৪ | ডায়েটারি ফাইবার | ২০-২৫ গ্রাম |
৫ | ক্যালসিয়াম | ২০০-২৫০ মিলিগ্রাম |
৬ | ম্যাগনেসিয়াম | ১৫০-২০০ মিলিগ্রাম |
৭ | ফসফরাস | ৯০-১২০ মিলিগ্রাম |
৮ | পটাশিয়াম | ৩০০-৩৫০ মিলিগ্রাম |
৯ | সোডিয়াম | ২০-৩০ মিলিগ্রাম |
১০ | আয়রন | ৫-৮ মিলিগ্রাম |
১১ | জিংক | ১-২ মিলিগ্রাম |
১২ | ফ্লাভোনয়েডস | ৫-১০ গ্রাম |
১৩ | ট্যানিন | ২০-২৫ গ্রাম |
১৪ | স্যাপোনিন | ২-৫ গ্রাম |
১৫ | ট্রাইটারপেনয়েডস | ১-৩ গ্রাম |
১৬ | গ্লাইকোসাইট | ২-৪ গ্রাম |
১৭ | অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট | পর্যাপ্ত পরিমাণে |
অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায়
অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায় এ সম্পর্কে বলতে গেলে, অর্জুনের উপকারিতা ও বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে আমরা আলোচনা করলাম কিন্তু যদি আমরা এটি কোথায় পাওয়া যায় সে বিষয়ে না জানি, সে ক্ষেত্রে এর ব্যবহার করা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। অর্জুন গাছের ছাল কোথায় পাওয়া যায় সে সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য, চলুন জেনে নেই।
- অর্জুন গাছের ছাল আপনি বিভিন্ন বড় শহরের হাট বাজারে এবং দেশজ ঔষধ বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে পেয়ে যাবেন। এটি গুড়া আকারেও পাওয়া যায়। ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার বা দেশের অন্যান্য বড় বাজারে আপনারা সহজে অর্জুন গাছের ছাল পেয়ে যাবেন।
- অর্জুন ছাল ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক দোকানে স্বাভাবিক ভাবে আপনারা পেয়ে যাবেন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের কসমেটিকস ও ইউনানি মেডিসিন বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে এটি সহজে পাওয়া যায়।
- কিছু ফার্মেসি বা হারবাল মেডিসিন শপে আপনারা অর্জুন ছাল পেয়ে যাবেন।
- অনলাইন ই কমার্স শপে আপনি খুব সহজে অর্জুন ছাল পেয়ে যাবেন।
- সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি অর্জুন ছাল বা অর্জুন ছালের গুড়া খুব সহজে পেয়ে যাবেন।
অর্জুন ছালের গুড়া খাওয়ার নিয়ম
অর্জুন ছালের গুড়া খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে এখন আমরা বেশ কিছু তথ্য জানতে চলেছি। অর্জুন ছালের প্রচলন আস্তে আস্তে কমে যাওয়ায় এটি বর্তমানে গুড়া আকারে শহরে বা অনলাইন সপে খুব সহজে পাওয়া যায়। আপনারা অবশ্যই এই গুড়া কেনার সময় ভালো কোম্পানি দেখে কিনবেন। এই গুড়া আপনারা কিভাবে খেতে পারেন, সে বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য চলুন জেনে নিন।
- ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১/৪ চা চামচ বা ০.৫-১ গ্রাম দুধ বা মধুর সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত শিশুদের ক্ষেত্রে অর্জুন ছাল খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের ক্ষেত্রে ১/২ চা চামচ বা ১-২ গ্রাম গরম পানি দুধ বা মধুর সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। হৃদ যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এটি ব্যাপক কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। রক্তচাপের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
- ১৯ থেকে ৫০ বছর বয়সী বা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১ চা চামচ সকালে খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া যেতে পারে। এভাবে খেলে হৃদরোগ প্রতিরোধ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে, পাচনতন্ত্রের উন্নতিতে ও চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
- ৫০ বছরের বেশি প্রবীণদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১/২ বা ১ চামচ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো হবে। সকালে খালি পেটে বা রাত্রে ঘুমানোর আগে এটি খাওয়া যেতে পারে। হার্টের সমস্যা, আর্থাইটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি ব্যাপক উপকারী হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্থায় অর্জুন ছাল খাওয়ার উপকারিতা
অর্জুন ছাল যে কোন সময় খাওয়ার সাথে সাথে গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খেলে স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় অর্জুন ছাল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত নিজ উদ্যোগে কোনমতেই গর্ভাবস্থায় অর্জুন ছাল খাওয়া ঠিক হবে না। চলুন এ বিষয়ে আরও তথ্য জেনে নেই।
- সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ১/২ চা চামচ অর্জুন ছালের গুড়া গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত হবে।
- খুবই কম পরিমাণে অর্জুন ছাল পানিতে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করা যেতে পারে। দিনে ১বারের বেশি পান করা উচিত হবে না।
- ১ চা চামচ অর্জুন ছালের গুড়া হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে পান করলে স্ট্রেস ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হয়। পরিমাণের বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ও শারীরিক বিষয়ের উপর চিন্তা করতে হবে।
- সপ্তাহে ২-৩ দিন অর্জুন ছালের গুড়া দুধ বা গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেলে রক্তশূন্যতা কমে যায় এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
- অর্জুন ছাল রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যাদের নিম্ন রক্তচাপ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অর্জুন ছাল গ্রহণ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে কারণ, এটি রক্তচাপ আরও নিম্ন করে দিতে পারে।
- অতিরিক্ত পরিমাণে অর্জুন ছাল গ্রহণ করলে জরায়ুর সংকোচন ঘটতে পারে। কোনমতেই অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করবেন না।
- অতিরিক্ত পরিমাণে অর্জুন ছাল গ্রহণ করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- অর্জুন ছাল গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস অর্জুন ছাল এড়িয়ে চলতে হবে।
- ভালো ফলাফল পেতে ১/২ চা চামচ বা তার কম পরিমাণ অর্জুন ছাল ব্যবহার করতে হবে। এর বেশী ব্যবহারে ঝুঁকি রয়েছে।
অর্জুন ছালের অপকারিতা
অর্জুন ছালের অপকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে, এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিষের যথেচ্ছা এবং এলোমেলো ব্যবহারের কারণে সমস্যা দেখা দেয়। প্রাকৃতিক যে কোন বিষয় গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালোভাবে জানতে হবে এবং পরিমাণ বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। অর্জুন ছালের অতিরিক্ত ব্যবহারে কি সমস্যা হতে পারে, চলুন সে বিষয়ে জেনে নেই।
- অর্জুন ছাল রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে। যাদের নিম্ন রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে, যার ফলে শারীরিক বড় ধরনের সমস্যা হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থেকে যায়।
- কিছু ঔষধ সেবন কালে অর্জুন ছালের ব্যবহার ঔষধ এর কার্যকারিতা বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্ত পাতলা কারী ঔষধ সেবন কালে অর্জুন ছাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
- অর্জুন ছাল অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে লিভারের উপর প্রভাব পড়তে পারে। যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে, কোনমতেই অতিরিক্ত ও দীর্ঘদিন অর্জুন ছাল ব্যবহার করবেন না।
- অর্জুন ছাল কিছু মানুষের শরীরে অ্যালার্জি ও ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ জাতীয় সমস্যা থাকলে ভেবেচিন্তে অর্জুন ছাল ব্যবহার করবেন।
- অতিরিক্ত অর্জুন ব্যবহার করলে অর্জুন এ থাকা বায়ো অ্যাকটিভ যৌগ আপনার কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে।
- অর্জুন এ থাকা ট্যানিন ও অন্যান্য উপাদান অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- অর্জুন ছালে কিছু উপাদান রয়েছে, যা আপনার রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে থাকে। যারা রক্ত পাতলা করা ঔষধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে বুঝে শুনে অর্জুন ব্যবহার করতে হবে।
- অর্জুনে থাকা কিছু উপাদান নার্ভাস সিস্টেমের উপর প্রভাব ফেলে থাকে, যার ফলে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
- অর্জুন ছালে থাকা কিছু উপাদান হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে, থাইরয়েড ও প্রজনন হরমোনের উপর এটি ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে থাকে।
- গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে অর্জুন ছাল ব্যবহার করলে জরায়ুর সংকোচন হতে পারে, যার ফলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থেকে যায়।
লেখক এর শেষ কথাঃ অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে এতক্ষণ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করলাম এবং বুঝতে পারলাম যে, অর্জুন ছাল অনেক উপকারী হলেও এটি অতিরিক্ত বা ভুল মাত্রায় গ্রহণ করলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমার এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্লগ পোস্ট করা হয়। এতক্ষণের আলোচনায় আশা করি আপনি অর্জুন সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য পেয়েছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করলে বিভিন্ন বিষয়ের উপর তথ্য পাবেন। আপনাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে, আজ এখানেই শেষ করছি।
আর্টমহলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url